এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৯ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৭৫ রান। ব্যাট করছেন লিটন (৩৭) ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (০)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করতে বাংলাদেশের দরকার ১৭৯ রান। সে লক্ষ্যে আগের ম্যাচের ওপানের শান্তকে নিয়েই মাঠে নামের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। কিন্তু হাতশই করেন শান্ত। দলীয় ২০ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে মাত্র ১ রান।
এর আগে তাইজুল ইসলামের বোলিং তাণ্ডবে ১৭৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭৯ রান।
গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টস জিতে বোলিং করতে নেমে দারুণ শুরু পায় সফরকারীরা। শুরুতেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন তাইজুল। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে নিজের প্রথম বলেই ব্রেন্ডন কিংকে সাজঘরে ফেরান শরিফুল ইসলামের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পাওয়া এই স্পিনার। তাইজুলের গুড লেংথের ঝুলিয়ে দেওয়া বলে ফ্রন্ট ফ্রুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন কিং। ডানহাতি এই ব্যাটার আউট হয়েছেন মাত্র ৮ রানে।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে আবারও উইকেটের দেখা পান তাইজুল। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বাঁহাতি এই স্পিনারের ঝুলিয়ে দেওয়া বলে উইকেট থেকে বেরিয়ে এসে কভার দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন শাই হোপ। তবে বল ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসে পাড়ি জমান। সুযোগ পেয়ে হোপকে স্টাম্পিং করতে ভুল করেননি সোহান। তাতে মাত্র ২ রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যেতে হয় হোপকে।
তাইজুলের পরের ওভারে আক্রমণে এসে উইকেটের দেখা পান পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই পেসারের গুড লেংথের শর্ট ডেলিভারিতে অ্যাক্রোস দ্য লাইন খেলতে চেয়েছিলেন শামাহ ব্রুকস। তবে লেংথ মিস করে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়েন ডানহাতি এ ব্যাটার। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে না পারায় নিকোলাস পুরানের সঙ্গে আলোচনা করে রিভিউ নেন ব্রুকস। তবে রিপ্লেতে দেখা যায় বল মিডল স্টাম্পের ঠিক ওপরে আঘাত হানে। তাতে আম্পায়ার্স কলে গ্যাঁড়াকলে পড়ে ৪ রানে সাজঘরে ফেরেন ব্রুকস।
১৬ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়েন পুরান ও কেচি কার্টি। তাদের দুজনের জমে ওঠা জুটি ভাঙেন নাসুম। বাঁহাতি এই স্পিনারের শর্ট অব লেংথ ডেলিভারিতে মিড অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন কার্টি। ডানহাতি এই ব্যাটার ৩৩ রানে ফিরলে ভাঙে পুরানের সঙ্গে তার ৬৭ রানের জুটি।
এরপর রভম্যান পাওয়েলকে নিয়ে আরেকটি জুটি গড়েন পুরান। তবে এই জুটিকে বেশিদূর এগোতে দেননি তাইজুল। তিনি ১৮ রান পাওয়েলকে বোল্ড করে ফিরিয়েছেন। এই টাইগার স্পিনারের গুড লেন্থের বলের লাইন মিস করেছিলেন পাওয়েল আর তাতেই তার স্টাম্প ছত্রভজ্ঞ হয়ে যায়। অন্য প্রান্ত থেকে সঙ্গ না পেলেও পুরান ৯৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন।
ব্যাট হাতে কিছুটা ধীর হলেও তার ইনিংসটি ছিল বেশ কার্যকর। দ্রুত আউট হয়েছেন কিমো পলও। তিনি তাইজুলের ফ্লাইটেড ডেলিভারির বল তাড়া করতে গিয়ে স্টাম্পিং হয়েছেন। এরপর আকিল হোসাইনকে বোল্ড করে আউট করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। নিজের শেষ ওভার করতে এসে তাইজুল বোল্ড করেছেন একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকা পুরানকে।
১০৯ বলে ৭৩ রান করা পুরান ডাউন দ্য ট্রেক খেলতে এসে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন ক্যারিবীয় এই অধিনায়ক। আর তাতেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম ৫ উইকেটের দেখা পান তাইজুল। ১০ ওভারে মাত্র ২৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এর আগে ওয়ানডেতে তার সেরা বোলিং ছিল ১১ রানে ৪ উইকেট। সেটা তার অভিষেক ম্যাচে ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরে।
শেষদিকে ক্যারিবীয় ব্যাটার গুরাকেশ মোতি মুস্তাফিজের অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে ইন সাইড এজ হয়ে বোল্ড হন। ১৯ রান করা রোমারিও শেফার্ডকে বোল্ড করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ইতি টেনেছেন নাসুম।