বৃহস্পতিবার গাবতলী-কমলাপুর-সদরঘাট ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই আধাবেলা অফিস করে পরিবার নিয়ে আসছেন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে। তবে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় যাত্রীর চাপ কম। কারণ পদ্মাসেতু চালু হওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক মানুষ আগেই সেতু দিয়ে গ্রামে চলে গেছে।
পরিবহন শ্রমিকরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ধীরগতি ও যানজট থাকায় বাস দেরিতে ঢাকায় ঢুকছে। এছাড়া, ঘরমুখো মানুষ ও ব্যক্তিগত যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ফলে বাসের শিডিউল কিছুটা এলোমেলো হচ্ছে। এছাড়া ঈদযাত্রায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
হানিফ পরিবহনের গাবতলীর কাউন্টার মাস্টার মোহাম্মদ জহির বলেন, পদ্মাসেতু চালু হওয়ায় গাবতলীতে যাত্রী কম। সকাল থেকে কিছু বাস দেরি করে ছাড়লেও যাত্রীদের কোনো অভিযোগ নেই। এছাড়া সবার কাছ থেকেই সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেয়া হচ্ছে।
কমলাপুর রেলস্টেশনের দৃশ্যও ছিল স্বাভাবিক। যাত্রীদের ভিড় থাকলেও পাওয়া যায়নি ভোগান্তি কিংবা হয়রানির অভিযোগ। স্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার বলেন, প্রথম দুইদিন ট্রেনের শিডিউল নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকলেও আজ নির্দিষ্ট সময়েই বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে ট্রেন। যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দিনের শুরুতে যাত্রীর চাপ স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়। বিকেলের দিকে খুলনা, রাজশাহী, চিলাহাটিসহ উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা ভিড় করতে শুরু করেন স্টেশনে।
সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী আসাদ আহমেদ বলেন, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেয়েছি। ট্রেন সময় মতোই ট্রেন ছাড়ছে, যাত্রীদের ভিড় ছাড়া কোনো ভোগান্তি নেই। আশা করি, শেষ পর্যন্ত নিরাপদেই পৌঁছাতে পারবো।
বাস টার্মিনাল এবং রেলস্টেশনের চেয়েও ফাঁকা ছিল রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। এখান থেকে নৌপথে সারাদেশে যাতায়াত সুবিধা থাকলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের ঈদে লঞ্চে যাত্রীর চাপ নেই বললেই চলে। বরিশাল-ভোলা-পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলগামী অধিকাংশ লঞ্চের টিকিট কাউন্টার ছিল ফাঁকা। লঞ্চের কেবিনের টিকিট পেতে কোনো দৌড়ঝাঁপ নেই, কাউন্টারে এসে চাহিদামতো টিকিট পাচ্ছেন যাত্রীরা। ঈদ উপলক্ষে এবার টিকিটের দামও বাড়েনি। বরং কেবিন ও ডেকের টিকিটের ভাড়া আগের তুলনায় কম।
বরিশালগামী লঞ্চ এমভি মানামীর মাস্টার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আমাদের অধিকাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্যবারের তুলনায় এবার ঈদে যাত্রী অনেক কম। এখন পর্যন্ত কোনো লঞ্চই সম্পূর্ণ যাত্রী পায়নি। শিডিউল মেনেই ছাড়া হচ্ছে সবগুলো লঞ্চ। এছাড়া ডেক-কেবিন-সোফার ভাড়াও কমানো হয়েছে।
বরিশালগামী পলাশ আহমেদ বলেন, ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া। লঞ্চের সিঙ্গেল কেবিনের টিকিট নিয়েছি। আগে দেড় হাজার টাকার নিচে ঈদের সময় সিঙ্গেল কেবিন মিলত না। এবার ১ হাজার টাকায় পেয়েছি। কাউন্টারেও কোনো ঝামেলা নেই।