ডয়েচ ভেলে:

যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক মানবাধিকার নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া। তিনি বলেন, শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নির্বাচন ও সুশাসনে ব্যাপক বাংলাদেশির অংশগ্রহণের ওপর বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে৷ সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকদের কাছে রাজনৈতিক মতবিরোধ নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের প্রত্যাশার কথা জানান তিনি৷

সদ্য সমাপ্ত উজরা জেয়ার ঢাকা সফর নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘বাইরে থেকে আমরা যা দেখছি, বিষয়টি এমন না-ও হতে পারে৷ সাংবাদিকদের কাছে তিনি যেটা বলছেন, সেটা তো তারা অনেকদিন ধরেই বলছেন৷ এই কথা বলার জন্য তাকে সুদূর আমেরিকা থেকে ঢাকায় আসতে হতো না৷ ওখানে বসে একটা বিবৃতির মাধ্যমে বলে দিলেই পারতেন৷ উনি যেহেতু বাংলাদেশে এসেছেন নিশ্চয় কিছু বার্তা তিনি দিয়েছেন৷ সেটা হয়ত আমরা বাইরে থেকে বুঝতে পারছি না৷ যাদের এই বার্তা দেওয়া প্রয়োজন, তাদেরই তিনি সেটা দিয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস৷’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘কিছু বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল এবং তা কমেছে৷’ উজরা জেয়ার সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেন তিনি৷

চার দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) রাতে উজরা জেয়া ঢাকা ছাড়েন৷ তার আগে গুলশানে সালমান এফ রহমানের বাসভবনে রাত ৯টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন তিনি৷ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লুও উপস্থিত ছিলেন৷ অপর দিকে, বাংলাদেশের পক্ষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন৷