দিবাকর সরকার, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লতাচাপলী ইউনিয়নের কুয়াকাটা সমুদ্রসংলগ্ন হিন্দু অধ্যুষিত মম্বিপাড়া গ্রামে শুক্রবার গভীর রাতে এক দুর্ধর্ষ চুরি সংগঠিত হয়েছে এবং বাড়ির মালিকদের ঘুমন্ত অবস্থায় হাত-পা বেঁধে ডাকাতির কায়দায় নির্দয়ভাবে মারধর করে গুরতর আহত করেছে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারের বর্ননামতে জানা যায়, ১৯ আগস্ট দিবাগত রাতে সুরঙ্গ খুড়েঁ ৪ মুখোশধারী দুর্বৃত্ত চুরির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বাড়ির মালিক মনিন্দ্রনাথ গয়ালী, তার ছেলে মৃনাল গয়ালীকে হাত পা বেঁধে ফেলে নির্দয়ভাবে মারধর করে দুই ভরি স্বর্ণালাঙ্কার ও নগদ কয়েক হাজার টাকা, লেপ-তোষক, বালিশ-কাঁথা সহ ঘরে থাকা ব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। এসময় দুর্বৃত্তদের মারধরে গুরুতর আহত হন মনিন্দ্রনাথ ও তার ছেলে মৃনাল গয়ালী। মৃনাল গয়ালীকে ধাতব কোন বস্তু দিয়ে কপালে ও মুখমন্ডলে এতবেশী আঘাত করা হয়েছে যে তাকে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তার অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে ঢাকাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হচ্ছে।
মনিন্দ্রনাথ গয়ালির ভাতিজা সুখদেব গয়ালি জানান, দুইটার দিকে ঘরে সুরঙ্গ করে ঘরের ভিতরে ৪ জন দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় হাতমুখ বেধেঁ মনীন্দ্রনাথ গয়ালী ও তার ছেলে মৃনাল গয়ালীকে ধাতব কোন বস্তু দিয়ে গুরুতর জখম ও মারধর করে। দূর্বৃত্তরা পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়।
এঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মহিপুর থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
উল্লেখ্য মনিন্দ্রনাথ গয়ালির ছোট ভাই কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত ড. জুরান চন্দ্র গয়ালী সম্প্রতি স্ত্রী ও দুই কন্যাসহ বাড়িতে এসেছিলেন এবং মাসাধিককাল বাড়িতে অবস্থান করে এঘটনার দুই দিন পূর্বে কানাডা ফিরে গেছেন। তাদেরকে টার্গেট করে বড় ধরনের টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালাঙ্কার লুটের আশায় কিংবা সম্প্রতি মনিন্দ্রনাথ গয়ালির সম্পত্তি বিক্রির টাকা পয়সা লুটের আশায় এরকম দুর্ধস্ব চুরি সংঘটিত হতে পারে বলে অনেকের ধারনা। বছরখানেক পূর্বেও পার্শ্ববর্তী বাড়ির গ্রাম্য চিকিৎসক নারায়ন চন্দ্র হাওলাদারের বাড়িতে চুরি করতে এসে নারায়নকে না পেয়ে তাঁর বৃদ্ধা মাকে সারারাত ধরে এতটাই অমানবিকভাবে নির্যাতন করে যে তিনি বর্তমানে পঙ্গু । চুরি করতে এসে কোন রকম বাঁধা না পাওয়া সত্তেও নিরীহ হিন্দু পরিবারকে এভাবে বার বার ডাকাতির কায়দায় মারধর করাটা কিছুটা রহস্যময় ব্যাপার বলে মনে করে এলাকাবাসী ।
মহিপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের বলেন, এটি একটি চুরির ঘটনা। পুলিশ ঘটনাস্থল ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছে। এঘটনায় পরিবারের পক্ষ্ থেকে অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সব্বোর্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।