গনেশ চন্দ্র হাওলাদার :

বিশ্বব্যাপী বিনোদনের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। গতানুগতিক সিনেমা, নাটক কিংবা খেলাধুলার গন্ডিকে পেছনে ফেলে কিশোর-কিশোরীদের মনন জগতে জায়গা করে নিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাপভিত্তিক বিনোদন। সম্প্রতি টিকটক অ্যাপের করালগ্রাসে বাংলাদেশি কিশোরীদের যৌন নির্যাতন ও বিভিন্ন দেশে পাচারের লোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশিত হয়ে বিনোদনভিত্তিক এই অ্যাপ সম্পর্কে মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক নারীকে টিকটক হৃদয় ও তার সহযোগীদের অমানবিক নির্যাতন ও গণধর্ষণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সম্প্রতি কয়েক মাসে টিকটকের নেশায় পড়ে পাচার হওয়া ও অনুরূপ নির্যাতনের শিকার হওয়া ভারত থেকে পালিয়ে আসতে পারা কয়েকজন তরুণীর সাক্ষাৎকার ও মামলা করার ঘটনায় এ সম্পর্কে ভয়াবহ তথ্য জানতে পারছে; যা কি না অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। বিদেশি ভাবধারা ও সামাজিক বাস্তবতায় তৈরি এসব অ্যাপ বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্য কতটা উপযুক্ত তা নিয়ে বিস্তারিত জেনে ও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ব্যাপক প্রচারসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


টিকটক অ্যাপ হচ্ছে একটি সোশ্যাল মিডিয়া, যার মাধ্যমে আমরা ইন্টারনেটে শর্ট ভিডিও তৈরি করে শেয়ার করতে পারি। বলতে গেলে এটা কিছুটা ইউটিউবের মতো। এই অ্যাপ ২০১৬ সালে প্রথম তৈরি হয় চীনে। তখন এটার নাম ছিল ‘douying’ নাামে। তার এক বছর পরে ২০১৭ সালে মার্কেটে এটার নাম পরিবর্তন করে টিকটক নাম দেওয়া হয়। তারপর ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই অ্যাপ বেশি জনপ্রিয় হয়। এই অ্যাপের মাধ্যমে ৩ সেকেন্ড থেকে শুরু করে ১ মিনিট পর্যন্ত শর্ট ভিডিও তৈরি করা যায়। এভাবে ভিডিও বানিয়ে অল্প সময়ে প্রচার পেয়ে বিখ্যাত হওয়ার একটা প্রতিযোগিতা বর্তমান সময়ে চলমান। বিনোদনজগতের কোনো কোনো সেলিব্রিটিও এই দুটি অ্যাপে বিভিন্ন ভিডিও শেয়ার করেন, যে কারণে অ্যাপটি কম বয়সি বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ভিডিওতে তারা নাচ-গানসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডের দৃশ্য এমনভাবে উপস্থাপন করে, যাতে উঠতি বয়সিরা সহজেই আকৃষ্ট হয়।

তবে আমাদের দেশে টিকটক অ্যাপে আপলোডের ভিডিও তৈরি করতে অনেক কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। রীতিমতো এ বিষয়ে তারা বেপরোয়া। টিকটক অ্যাপ ব্যবহারকারীদের অধিকাংশের বয়স ১৬ থেকে ২৫ বছর। ভিডিও আপলোড করে টিকটকারদের ফলোয়ার বাহিনী তৈরি করা হয়। কথিত টিকটক স্টাররা এই ফলোয়ার বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। কিশোর ও তরুণী টিকটকাররা উচ্ছৃঙ্খল পোশাক পরে, অস্বাভাবিক আচরণ করে। এলাকাভিত্তিক টিকটকের গ্যাংগুলো বিভিন্ন পার্ক, খোলা জায়গায়, ফুটপাত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে একত্র হয়ে ‘ভিডিও কনটেন্ট’ তৈরি করার নামে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, যৌন হয়রানি, পথচারীদের গতিরোধ, বাইক মহড়াসহ নানা অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এই ফাঁদে পড়ে অনেক কিশোর-কিশোরী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়ছে। অভিভাবকদের কথা শুনছে না। আবার টিকটক করতে এসে অনেক কিশোরী-তরুণী ধর্ষণের শিকারও হয়েছে। এমনকি টিকটকারদের ফাঁদে পড়ে পাচারের শিকার হচ্ছেন অনেক নারী। সম্প্রতি ভারতে নির্যাতনের শিকার তরুণীর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনা তদন্তে টিকটক মডেল বানানোর ফাঁদের ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে দেখা গেছে, এই ফাঁদে ফেলে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার নারীকে ভারতে পাচার করা হয়েছে।


টিকটকে ভিডিও বানানোর কথা বলে কৌশলে ভারতে পাচার, সেখানে দফায় দফায় নির্যাতন ও যৌনকর্মে বাধ্য করা ৭৫ দিনের জিম্মিদশা থেকে ৭ মে পালিয়ে দেশে আসা এক তরুণী সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন লোমহর্ষক ভয়াবহ তথ্য। ২০১৯ সালের মার্চে এক বান্ধবীর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে রাজধানীর হাতিঝিলে টিকটক হৃদয়ের সঙ্গে তার পরিচয়, ২০২০ সালের রাজধানীর একটি বিপণিবিতানে বিক্রয়কর্মীর চাকরিরত অবস্থায় বার বার হৃদয় তার সাথে যোগাযোগ করার এক পর্যায়ে করোনা মহামারীতে চাকুরি হারানোয় আয়ের ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রলোভনে হৃদয় তাকে প্রেমের জালে জড়িয়ে নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে ‘টিকটক হ্যাং আউট’ পার্টিতে যোগ দেয়ায়। কুষ্টিয়ায় লালনের মাজারে টিকটকারদের আরও একটি বড় হ্যাংআউট আছে। সেখানে যোগ দিলে টিকটক স্টার হিসেবে তাকে বিখ্যাত করে টিকটক ভিডিও বানানোর কথা বলে কুষ্টিয়ায় নেয়ার কথা বলে ১৯ ফেব্রæয়ারি ২০২১ সাতক্ষীরায় নিয়ে ভারতীয় সীমান্তের আকর্ষণীয় স্পটে টিকটক ভিডিও বানানোর কথা বলে হৃদয় ও তার সহযোগী মেহেদী হাসানসহ ছয় পাচারকারী আরও ছয় তরুণীকে অভিনব কৌশলে ভারতে পাচারের সময় প্রথমে কলকাতায় নেওয়ার পর টিকটক হৃদয় ও বকুল নামের তার এক সহযোগী সহ তাকেসহ অন্য আর একটি মেয়েকে একঘরে আটকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করেন। সেগুলোর ভিডিও প্রকাশ এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের আইনে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কলকাতা থেকে বিমানে করে তাদের বেঙ্গালুরে নিয়ে হায়দরাবাদে ও চেন্নাইয়ের হোটেলে জোর করে যৌন নিয়োজিত করে। প্রথমদিনই ওই তরুণীকে ১৯ জনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়। এতে তরুণী অসুস্থ হয়ে হোটেলের লোকজনের সাহায্য চায়। লোকজন তাকে জানায়, দিনে ৩০টি কাজ করতে হবে। এসময় তরুণী কান্নাকাটি ও আত্মহত্যার চেষ্টা করলে পাচারকারীরা তাদের ডেরায় ফিরিয়ে এনে তাকে প্রচন্ড মারধর করে অন্যদের সামনে তরুণীকে ধর্ষণ করে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। মৃত্যুর মুখ থেকে পালিয়ে আসার পর ঢাকার হাতিরঝিল থানায় তিনি পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এই তরুণীর করা মামলার ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরা থেকে বাবা-ছেলেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মেহেদী হাসান (৩৫), তার বাবা আবদুল কাদের (৫৫) এবং মহিউদ্দিন (৩০) গত আট বছরে এক হাজারের বেশি নারীকে ভারতে পাচার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই চক্রের অপর চার সদস্যকে গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব বলেছিল, তারা পাঁচ বছরে অসংখ্য নারীকে ভারতের বেঙ্গালুরুতে পাচার করেছে। এছাড়া আমিরুল ইসলাম (৩২) ও আবদুস সালাম মোল্লা (৩৬) সহ এ নিয়ে সারাদেশে গ্রেফতার হয়েছে ২২ জন পাচারকারী।


  • টিকটকের পুলসাইড পার্টিকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে মূলতঃ তরুণীদের মানব পাচারের ভয়ঙ্কর ফাঁদে ফেলার কাজ শুরু হয়। পুলপার্টিতে মূলত দুটি উপায়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়। টিকটক সেলিব্রিটিরা তাদের নিজ নিজ এ্যাকাউন্টে পুলপার্টিতে অংশগ্রহণের আহŸান জানায়। আরেকটি হলো ফেসবুকে বিভিন্ন প্রাইভেট গ্রæপ এবং পেজ থেকে পুলপার্টির ইভেন্ট ডাকা হয়। উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা একে অপরের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ পেতে ছুটে আসে পুলপার্টিতে। এই পুলপার্টির আয়োজন করেই গত তিন বছরে কয়েক হাজার তরুণীকে বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন রিসোর্ট ও মনোরম স্থানে এই পুলপার্টির আয়োজন করা হয়। অশ্লীলতায় ভরা এইসব পার্টিতে আমন্ত্রণ জানানো হয় টিকটকে আগ্রহী কম বয়সী তরুণীদের। টিকটকের নেশায় বুঁদ হয়ে তরুণীরা ছোটে এসব পার্টিতে। টিকটকের মতো ড্যান্স পার্টির আড়ালেও চলে বিভিন্ন পার্টির আয়োজন। সেখানে ভিডিও বানিয়ে টিকটকে ছাড়া হয়। টার্গেট করা তরুণীদের কখনও বিয়ের ফাঁদে ফেলে আবার কখনও টিকটকে অভিনয় করার প্রলোভনে ভারতে পাচার করা হয়। ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে যৌন ব্যবসায় বাংলাদেশী তরুণীদের চাহিদা বেশি থাকায় বিপুল অর্থের লোভে দেশের তরুণীদের পাচার করত টিক টক চক্র। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে টিকটক হৃদয় ফতুল্লায় এ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ডপার্কে টিকটক ‘হ্যাংআউট পুলপার্টি’র আয়োজন করে। এরপর একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের আফরিন গার্ডেন রিসোর্টে আরেকটি পুলপার্টির আয়োজন করে হৃদয়। সেখানে ৭০০-৮০০ তরুণ-তরুণী অংশ নেয়। টিকটক ছাড়াও ডিজে ও পুলপার্টি ঢাকা নামে আরও একাধিক গ্রæপ রয়েছে যারা আয়োজন করে এই ধরনের ইভেন্ট। অনলাইনে তরুণ-তরুণীদের দেয়া হয় লোভনীয় সব অফার। উন্মুক্ত রাখা হয় অসামাজিকতার সব রকম সুযোগ। ফাঁদে পা দিয়ে তরুণীরা যুক্ত হয় এই পার্টিতে। এক্টিভিটিজের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সেফটি রুম, স্মোকিং জোন, বেস্ট সিকিউরিটি, স্পেশাল পার্টি উইথ হট ডিজে এ্যান্ড গার্লস। সেফটি রুম মূলত অবিবাহিত কাপলদের একান্ত সুযোগ করে দেয়ার একটি মাধ্যম। আর সুইমিংপুলের পানিতে জলকেলির নামে মেয়েদের সঙ্গে বেহায়াপনার অফুরন্ত সুযোগ করে দেয় পুলপার্টি। কোন কোন পার্টিতে বাড়তি টাকায় মেলে মদ ও বিয়ার পানের সুযোগ। মেয়েদের কেউ কেউ বুঝে আবার কেউ না বুঝে চলে আসে পার্টিতে। এদের অধিকাংশই বিভিন্ন গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরি এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। অল্প টাকায় চোখের সামনে এত জাঁকজমক দেখে অনেকেই নিজেকে সামলাতে পারে না। এসব পুলপার্টির পেছনে সক্রিয় থাকে নারী পাচারকারীদের একটি চক্র। সেখান থেকে তারা সুন্দরী ও আকর্ষণীয় তরুণীদেরকে বেছে নিয়ে টার্গেট করে। এরপরই ওই তরুণীদের সঙ্গে সখ্য জমিয়ে বিশ্বস্ততা অর্জন করে বিভিন্ন অফার এবং প্রলোভন দেখিয়ে আরও বেশ কয়েকটি পার্টিতে ডেকে বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ভারতে পাচার করে দেয়। এরপর তাদের জায়গা হয় ভারতের কোন হোটেল কিংবা দেহ ব্যবসায়ী চক্রের কাছে।

তবে বর্তমানে পুলিশ-র‌্যাবসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এসব কথিত টিকটক স্টার তথা অপরাধীদের ধরতে জোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। ওই তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনায় রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় নামে ঢাকার মগবাজার এলাকার এক বাসিন্দাকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এই রিফাদুলই মেয়েটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর কথা বলে বছরখানেক আগে ভারতে নিয়ে যান বলে তার পরিবার জানিয়েছে। এ ছাড়া বেঙ্গালুরুর ঘটনায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের সাইবার প্যাট্রোলিং দলের সদস্যরা রিফাদুলের ফেসবুক আইডি শনাক্ত করে তার মা ও মামাকে এনে হোয়াটসঅ্যাপে রিফাদুলের সঙ্গে কথা বলানোর একপর্যায়ে মেয়েটিকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেন রিফাদুল। নির্যাতিতার পরিবারকে পুলিশ খুঁজে বের করে মেয়েটির (২২) বাবাকে দিয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করান এবং এ বিষয়ে বেঙ্গালুরু পুলিশের কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। ভুক্তভোগী মেয়েটি এবং ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া রিফাদুলসহ অন্য আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। ভবিষ্যতে অপকর্ম বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

টিকটকসহ সামাজিক মাধ্যমকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে নানাবিধ নেতিবাচক কর্মকান্ড সব সময়ই চলমান রয়েছে; তবে করোনায় মানুষের আয় কমে যাওয়া, সামাজিক অবক্ষয় বা সমাজব্যবস্থার ত্রুটি, পারিবারিক অনুশাসনের অভাব, অসচেতনতা, দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা বা মানসম্মত শিক্ষার অভাব, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও ধর্মীয় শিক্ষার অভাব, খেলাধুলার ব্যবস্থা না থাকা, দুষ্ট সাহচর্য এবং ব্যক্তিত্ববোধের অভাবসহ নানা কারণে এমন ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। খেলার মাঠ, ক্লাবসহ পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। অভিভাবকদের সন্তানকে বিভিন্ন চারিত্রিক গুণাবলির শিক্ষা দিতে হবে। সময় দেওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের চালচলন, পোশাক-পরিচ্ছদের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
বিশ্বায়নের এ যুগে প্রযুক্তির ব্যবহার চাইলেও এককথায় বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে টিকটকসহ সামাজিক মাধ্যমের এ জাতীয় অন্য আরো কয়েকটি অ্যাপ বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের জন্য কতটা নির্ভরযোগ্য, তা সচেতনভাবে অভিভাবক ও প্রশাসনের নজরদারির মাধ্যমে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অপরাধী চক্র সব যুগেই ছিল, এখন হয়তো তারা এসব অ্যাপের ব্যবহারে সাময়িকভাবে সহজেই ফাঁদ তৈরি করছে, নারীদের সর্বনাশ ডেকে আনছে। আশা করা যায় সবার সম্মলিত প্রচেষ্টা ও দেশের বর্তমান চৌকস আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে টিকটক অপরাধীদের দৌরাত্ম্য অচিরেই বন্ধ হবে।
লেখক : বার্তা সম্পাদক, দৈনিক দর্পণ প্রতিদিন।
ganash74@hotmail.com