নাসির উদ্দিন খান
ওয়েব কনটেন্টের কল্যাণে নাসির উদ্দিন খান এখন পরিচিত মুখ। চট্টগ্রামের তীর্যক নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য নাসির মঞ্চনাটকেই কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের বেশিরভাগ সময়। একসময় চাকরি করেছেন। কিন্তু অভিনয়ের ধ্যান তাকে এতটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, চাকরি ছেড়ে চলে আসেন ঢাকায়। চট্টগ্রামে থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালে ওয়াহিদ তারিকের ‘আলগা নোঙর’ সিনেমায় অভিনয় করেন, আর দুটি টিভি নাটক ও পাঁচ-ছয়টি টেলিফিল্মেও দেখা যায় তার চেহারা।
ঢাকায় এসে ধীরে ধীরে নাসিরের ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। ‘মহানগর’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে পরিচিতি পান। এরপর নেতিবাচক চরিত্রে বড় চমক দেখান ‘বলি’ সিরিজে। ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘পরাণ’ ও মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘হাওয়া’ সিনেমায়ও আছেন তিনি। দেশের শোবিজে খল চরিত্রে অন্য মাত্রা যোগ করেছেন নাসির।
রাশেদ মামুন অপু
সিনেমা কিংবা ওয়েব কনটেন্ট- নেতিবাচক চরিত্রে এখন নির্মাতাদের ভরসার নাম রাশেদ মামুন অপু। ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে আঞ্চলিক ভাষায় কমেডি চরিত্রে দর্শকদের হাসির খোরাক জুগিয়েছেন। তবে এখনকার চিত্র একেবারেই উল্টো। পর্দায় ‘খারাপ মানুষ’ হয়ে দর্শকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি।
অপুকে প্রথম খল চরিত্রে দেখা যায় ‘নবাব এলএলবি’ সিনেমায়। এরপর রায়হান রাফীর ‘জানোয়ার’, ‘দামাল’, অনন্য মামুনের ‘কসাই’, ‘অমানুষ’ সিনেমাগুলোতে তার মাস্তানি দেখেছেন দর্শক। খল চরিত্রে অভিনয় বেশ উপভোগ করেন বলেই জানালেন অপু। এ ধরনের চরিত্রে বৈচিত্র্য বেশি বলেই মতামত তার।
অপু বলেন, যখন নবাব এলএলবি সিনেমায় প্রধান খল চরিত্রে সুযোগ পেলাম, মনে হলো এটাই আমার জায়গা। সিনেমায় ভিলেনদের আলাদা একটা অবস্থান আছে। নিজেকে ভেঙ্গে চুরে দেখার জন্যই খল চরিত্রে অভিনয় করছি।
সুমন আনোয়ার
টিভি নাটক নির্মাণ করে পরিচিতি পেয়েছেন সুমন আনোয়ার। তবে তার শুরুটা হয়েছিল মঞ্চে অভিনেতা হিসেবে। পরবর্তী সময়ে কিছু টিভি নাটকেও অভিনয় করেন। নির্মাতা হিসেবে ব্যস্ত হওয়ায় অভিনয়ে আর পাওয়া যায়নি সুমন আনোয়ারকে। ইদানীং আবারো অভিনয়ে সরব হয়েছেন সুমন।
বিশেষ করে খল চরিত্রে প্রশংসা পাচ্ছে তার অভিনয়। রায়হান রাফীর ওয়েব ফিল্ম ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ ও ‘সাত নাম্বার ফ্লোর’ সিরিজ ছাড়াও সুমন আনোয়ার দেখা দিয়েছেন সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘কাইজার’ সিরিজে। মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘হাওয়া’ সিনেমায়ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন তিনি। নেতিবাচক চরিত্রে তার স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা পাচ্ছে।
শাহেদ আলী
মঞ্চ, টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় করছেন শাহেদ আলী। চিত্রনাট্যে খানিকটা অন্য রকম চরিত্র এলেই নির্মাতারা খোঁজেন তাকে। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অনেক ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহেদ আলী। পেয়েছেন প্রশংসা। তবে গত কয়েক বছর তিনি আরো ব্যাপকভাবে পরিচিতি পেয়েছেন নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে। ‘মহানগর’, ‘দৌড়’ ও ‘রিফিউজি’ ওয়েব সিরিজগুলোতে তার অনবদ্য অভিনয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এছাড়া শাহেদ আলী নেতিবাচক চরিত্রে কাজ করেছেন ‘এবার তোরা মানুষ হ’, ‘চিৎকার’, ‘প্যারাসাইকোলজি’, ‘অমানুষ’, ‘পাষাণ’ ও ‘কালের পুতুল’ সিনেমায়। ‘পুনর্জন্ম’সহ অনেক নাটকেও এ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
শাহেদ আলী বলেন, সব ধরনের চরিত্রে তো সব সময় কাজ করার সুযোগ হয় না। ডিফরেন্ট কোনো ক্যারেক্টর হলে নির্মাতারা আমাকে ডাকেন। ডার্ক শেড বা অলটারনেটিভ চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিজেকে ভাঙার সুযোগ হয়। এটা বেশ এনজয় করি।
ফারহান খান রিও
মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে ক্যারিয়ার শুরু করেন রিও। অভিনয় করেছেন মিউজিক ভিডিও ও টিভি নাটকে। অনন্য মামুনের পরিচালনায় ‘কসাই’ সিনেমায় খল চরিত্রে প্রথম দেখা যায় রিওকে। এরপর তিনি অভিনয় করেন একই নির্মাতার ‘অমানুষ’ ও ‘সাইকো’ সিনেমায়।
দরাজ কণ্ঠস্বর ও স্বতঃস্ফূর্ত পর্দা উপস্থিতির কারণে তরুণ ভিলেন হিসেবে প্রশংসা পাচ্ছেন রিও। তিনি নিজেও চান ভার্সেটাইল অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে। ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘সাইকো’ সিনেমায় তার অনবদ্য পারফরম্যান্স দর্শকদের মন জয় করেছে। নির্মাতারাও নতুন করে ভাবছেন রিওকে নিয়ে।
রোজী সিদ্দিকী
ঢাকাই সিনেমায় পুরুষদের পাশাপাশি ছিল নারী ভিলেনদেরও আধিপত্য। রওশন জামিল, মায়া হাজারিকা, সুমিতা দেবী, রিনা খান কিংবা শবনম পারভীন- একসময় পর্দায় ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। এখন বাংলা সিনেমার গল্পের নারী ভিলেনরা অনেকটাই নিষ্প্রভ। তবে এ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে সম্প্রতি তাক লাগিয়েছেন রোজী সিদ্দিকী।
ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘পরাণ’ ও ‘সাইকো’ সিনেমায় প্রশংসিত হচ্ছে তার অভিনয়। রোজী সিদ্দিকী বলেন, খল চরিত্রে আরো বেশি কাজ করতে চাই। ৩২ বছর ধরে অভিনয় করছি। আমার মনে হয়, খল ও কমেডি চরিত্রের মতো কঠিন অভিনয় আর হয় না।