দর্পণ ডেস্ক : ৮০-৯০ দশক পর্যন্ত সিনেমার জগতে যে ক’জন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে একজন নূতন। সে সময় নাগনাগিনীর সিনেমা মানেই তিনি ছিলেন অপরিহার্য। অভিনয় গুণে সেসময় পুরো চলচ্চিত্র মাতিয়ে রেখেছিলেন এই চিত্রনায়িকা। তবে এখন আর পর্দায় তার দেখা নেই। খুব একটা খোঁজ নেন না সহকর্মীরাও। নূতন বললেন, ‘আপনারা কি এখন আর আমাদের খোঁজখবর নিতে চান! আপনারা তো এখন ব্যস্ত নবীন নায়িকাদের খবরে। আমি তো এখন পুরোনো হয়ে গেছি। মাঝে মাঝে ভাবী, সত্যি কি আমি চলচ্চিত্রের জন্য শ্রম দিয়েছি! আমার কি তিল পরিমাণও অবদান নেই এই শিল্পে? আমি যে ইন্ডাস্ট্রিতে এত বছর ধরে কাজ করলাম, শ্রম-মেধা দিলাম, কই সে সমিতিও তো আমার খবর নেয় না।’একজন শিল্পীর জীবনে এর চেয়ে বেশি কি আর চাওয়া থাকতে পারে জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত শিল্পীরা কোনো পুরস্কারের জন্য অভিনয় করেন না। তারা দর্শকদের ভালোবাসা প্রত্যাশা করেন। সাংবাদিকদের মূল্যায়ন প্রত্যাশা করেন। হ্যাঁ, এটা সত্যি যে, যেকোনো পুরস্কার একজন শিল্পীর দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দেয়। কই নূতন নামে যে একজন নায়িকা বাংলাদেশে ছিলেন, তার কোনো কিছু কি পর্দায় আছে! সিনেমা বিষয়ক কোনো অনুষ্ঠানেও কিন্তু আমার দেখা নেই। ঘুরেফিরে সেই একই মুখ! সত্যি বলতে, এখন নিজের ঢোল নিজেকেই পেটাতে হয়। কিন্তু আমার দ্বারা তা সম্ভব না। আমি স্পষ্ট কথা বলতে অভ্যস্ত।’ নূতন আরও বলেন, চলচ্চিত্রের ইতিহাস লিখতে গেলে সোনালি যুগের শাবানা, ববিতা, কবরী, নূতন, অঞ্জনাদের নাম অবশ্যই লিখতে হবে, না হলে চলচ্চিত্রের ইতিহাস অসম্পন্ন রয়ে যাবে।