অনলাইন ডেস্ক : সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে আট দিনের সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশে পলাতক থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরে আসতেই হবে। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দেশে ফেরার পর তার সরকারি বাসভবন গণভবনে দেখা করতে আসা দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় নেতারা যুক্তরাজ্য সফরে তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেশের মানুষ গ্রহণ করেছে জানিয়ে তাকে সাধুবাদ জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘তারেক রহমানকে দেশে ফিরে আসতেই হবে।’

আট দিনের সরকারি সফর শেষে গতকাল সোমবার সকালে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তার বাসভবন গণভবনে যান। সেখানে অপেক্ষারত দল ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা স্বাগত জানান তাকে। প্রধানমন্ত্রী নেতাদের কাছে দলের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবরও নেন।

গণভবনে উপস্থিত নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, একজন নেতা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ‘তুহিন মালিক নামের সরকারবিরোধী একজন আইনজীবী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে জাতির পিতার নামসহ সবকিছু মুছে ফেলা হবে।’ জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তারা ২১ বছর বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে; কিন্তু পারেনি। পঁচাত্তরের পর বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ পর্যন্ত বাজাতে দেওয়া হয়নি। আজ এই ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের লেখালেখির মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচারের জবাব দিতে নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসার ফলে আজ সবাই এক ধরনের সাংবাদিক।

এ সময় ভারত সফররত আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অনুপস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হলে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘তুমি! আর কেউ ছিল না?’ জবাবে নেতারা বলেন, ‘আপা সবাই তো দেশের বাইরে।’ শেখ হাসিনা জানতে চান, ‘একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও কি দেশে নেই?’ জবাবে নেতারা না-সূচক জবাব দিলে স্বপনের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ও, সেজন্যই তুমি!’

গণভবনে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া নেতারা এসব তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী সফরের বিভিন্ন বিষয়ে নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।

গণভবনে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. আবদুর রাজ্জাক, ফরিদুন্নাহার লাইলী, অসীম কুমার উকিল, শামসুন্নাহার চাপা, দেলোয়ার হোসেন, মারুফা আক্তার পপি, ইকবাল হোসেন অপু প্রমুখ।

এর আগে গতকাল সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। রোববার রাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে বিমানটি।

সৌদি বাদশাহ সালমানের আমন্ত্রণে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-জুবাইলে ‘গাল্‌ফ শিল্ড-১’ শীর্ষক একটি যৌথ সামরিক মহড়ার সমাপনী কুচকাওয়াজে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল সৌদি আরব সফর করেন। প্রধানমন্ত্রী তার সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৬ এপ্রিল লন্ডনে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের (সিএইচওজিএম) শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করেন।