পাবিপ্রবিতে নির্মিত হচ্ছে প্রধান ফটক। ছবি: প্রতিনিধি

‘পাবনা’, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ এবং ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ এই তিনটি শব্দকে সামনে রেখে ডিজাইন করা হয়েছে গেটটির। এই ফটকের নাম দেওয়া হয়েছে ‘পাখির মতো স্বাধীন’। যার ডিজাইন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিজয় দাশ গুপ্ত। পাবনার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন স্থাপনাগুলোর ছোঁয়া রাখতে গেটে একটি আধুনিক ওরিগেমি ফর্মের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে সার্কুলার কলাম, আর্চ ও জালি। এই ডিজাইনগুলো পাবিপ্রবিতে প্রবেশকালে প্রাচীন শহরের প্রতিনিধিত্ব করবে। 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কথা শুনলেই মানুষ মনে করে যেন যান্ত্রিক কিছু। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মূল অনুপ্রেরণা যে প্রকৃতি, সেটা অনেকেই চিন্তাও করে না। মানুষের এই ভুল ধারনাটি ভাঙ্গতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মূল অনুপ্রেরণা প্রকৃতিকে সুনিপুণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এই ফটক। 

পাবিপ্রবিতে নির্মিত হচ্ছে প্রধান ফটক। ছবি: প্রতিনিধি

ফটকটির ডিজাইনে ব্যবহার করা হয়েছে ‘স্পেস ট্রাস’, যা ঝুলন্ত গুল্ম উদ্ভিদকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে। কংক্রিটের গেটে প্রাণের সঞ্চার ঘটাতে এই ডিজাইনের ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্ত চিন্তার জায়গা। এখানে শিক্ষার্থীরা পাখির মতো স্বাধীন থেকে জ্ঞান আহরণ করবে। তাইতো, ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দটির প্রতীকী রূপে এই গেটে স্থান দেওয়া হয়েছে পাখিকে। ফটকটির মধ্যে পাখির বসবাসের জন্য স্থান করে দেওয়া হয়েছে। সবুজে ঘেরা স্পেস ট্রাসগুলোর ভেতরের দিকের বিভিন্ন কোণায় পাখির জন্য তৈরি করা হবে নেস্ট এবং ব্রিডিং হাব। যেখানে পাখিরা নিরাপদে থাকবে এবং প্রজনন ঘটাবে। এই গেটে মুক্তির প্রতীক পাখি একদিকে শিক্ষার্থীদের যেমন মুক্ত চিন্তার অনুপ্রেরণা যোগাবে অন্যদিকে কিচিরমিচির আর কুহুতান সবাইকে অভ্যর্থনা জানাবে।

পাবিপ্রবিতে নির্মিত হচ্ছে প্রধান ফটক। ছবি: প্রতিনিধি

গেটটির ডিজাইনার বিজয় দাশ গুপ্ত ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, নিজের কাছে খুব আনন্দ লাগছে, নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকটির ডিজাইন করতে পেরে। তবে এটি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল। অতীত এবং বর্তমানের স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণ ঘটিয়ে গেটটির ডিজাইন করতে গিয়ে বারবার বেগ পেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ডিজাইনটি চূড়ান্ত হয়েছে। কাজ এগিয়ে চলছে। সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন হলে সবাই ভালো একটি স্থাপনা দেখতে পাবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, ৯৫ লাখ টাকা চুক্তি মূল্যে এই ফটকটির ৩৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ। ২০২১ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া এই কাজটি আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রকল্প পরিচালক।