অনলাইন ডেস্ক :‘পূবে তাকাও’ নীতি বাস্তবায়নের ব্যাপারে ভারত সরকার যথেষ্ট দায়িত্ববান বলে জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। আর এই লক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির সাথে কানেকটিভিটি বাড়ানোর লক্ষ্যে সড়ক নির্মাণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ত্রিপুরার মাতাবাড়ি থেকে সাব্রস্নম পর্যন্ত ৭৩.৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ জাতীয় সড়কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পূবে তাকাও নীতি বাস্তবায়িত করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক প্রকল্প নিয়েছে। এই নীতির আওতায় কানেকটিভিটি বাড়ানোর লক্ষ্যে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া সহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলির সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, ‘মাতাবাড়ি-সাব্রস্নম নবনির্মিত ৮ নম্বর জাতীয় সড়কটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সাব্রস্নমে নির্মাণাধীন ফেনী সেতুর সাথে মিশবে। এই সেতুটি একবার কাজ শুরু করলে ত্রিপরার সাথে বাংলাদেশের বন্দর শহর চট্টগ্রামের সাথে সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে’।
রাষ্ট্রপতি জানান, ‘কেন্দ্রের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) সরকার উত্তরপূর্বে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালুর ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। কেবলমাত্র ত্রিপুরাতেই ৬০০০ কোটি রুপি ব্যায়ে ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে’।
এই সড়ক প্রকল্পের ফলে মানুষ আরও কাছাকাছি আসবে বলে উল্লেখ করে কোবিন্দ বলেন ‘আগরতলা থেকে কলকাতা পর্যন্ত দূরত্ব কমে যাবে। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর আগরতলা থেকে কলকাতা পর্যন্ত দূরত্ব ছিল ১৭০০ কিলোমিটার, কিন্তু বাংলাদেশের মাটি ব্যাবহার করে সেই দূরত্ব কমে ৫০০ কিলোমিটারে আসবে’।
তিনি আরও জানান, ‘আগরতলা(ত্রিপুরা)-আখাউড়া(বাংলাদেশ) নির্মাণাধীন রেল সংযোগের ফলে উত্তরপূর্ব ভারত বাংলাদেশ রেল নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হবে। সড়ক ও রেল যোগাযোগের ফলে উত্তরপূর্ব ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ই প্রচুর উপকৃত হবে’।
ত্রিপুরার উদয়পুরের রাজর্ষি টাউন হলে আয়োজিত এদিনের জাতীয় সড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল তথাগত রায়, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, উপ-মুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা প্রমুখ।