বুধবার (৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের দপ্তরের সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। এর আগে অনুষ্ঠিত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এই বাজেট অনুমোদিত হয়।
বিগত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মাভাবিপ্রবির বাজেট ছিল ৭৭ কোটি ৫ লাখ টাকা। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বাজেটের পরিমাণ ৮২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এবার বাজেটের আকার যেমন বেড়েছে এবং বরাদ্দও সবচেয়ে বেড়েছে। গবেষণা খাতে গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল মোট ৮০ লাখ টাকা, যা ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে গবেষণা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত অর্থ বছরের থেকে গবেষণায় বরাদ্দের পরিমাণ ৪৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তবে গত বছরের তুলনায় এবারের বাজেটে সবচেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে পেনশন ও অবসর সুবিধা খাত। এই খাতে গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ব্যয় ধরা হয় ৩০ লাখ টাকা এবং বর্তমানে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে এক কোটি ১৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৪ লাখ টাকা যা শতকরা হিসাবে ২৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে মোট বাজেটের ৮২ কোটি ৬৭ লাখ টাকার মধ্যে বেতন ও ভাতাদি বাবদ সহায়তায় বরাদ্দ করা হয়েছে ৫৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। যা গত অর্থবছরে ছিল ৫১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় যা ১১ দশমিক ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
যন্ত্রপাতি অনুদানে বরাদ্দ করা হয়েছে ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা গত অর্থবছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
২০২২-২০২৩ অর্থবছরের এই বাজেটে ৭৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা দেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সূত্র থেকে আয় ধরা হয়েছে আট কোটি টাকা।
বাজেটে সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে বেতন ও ভাতা বাবদ সহায়তা হিসেবে, যা ৫৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা পণ্য ও সেবা খাতে সহায়তা বাবদ ও যন্ত্রপাতি অনুদান খাতে বরাদ্দ যথাক্রমে ১৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
তবে ২০২১- ২০২২ অর্থবছরের তুলনায় ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের কয়েকটি খাত থেকে অর্থ বরাদ্দ কমানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ কমানো হয়েছে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি অনুদানে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ১কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। যা ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে এক কোটি ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে অর্থাৎ ৮০ লাখ (-৪২ দশমিক ১১ শতাংশ) টাকা কমানো হয়েছে। অন্যান্য মূলধন অনুদান বাজেট বরাদ্দ হয়েছে ৭০ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের তুলনায় (-১২ দশমিক ৫০ শতাংশ) কম।
তথ্য প্রযুক্তি খাত ও অন্যান্য মূলধন অনুদান থেকে গত বছরের তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা কমানোর কারণ হিসেবে মাভাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ বলেন, ‘আগের অর্থবছরে আমাদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছিল। তাই এই অর্থবছরে বরাদ্দ কমানো হয়েছে।’
বাজেট সম্পর্কে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা এই বাজেটে গবেষণাখাতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। গবেষণা খাতের উন্নয়ন হলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আরো সামনের দিকে আগাতে পারবে। গত অর্থবছরের তুলনায় গবেষণায় ৪৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত অর্থবছর থেকে মোট বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।