অনলাইন ডেস্ক : প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচানায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি: ফোকাস বাংলা)মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘মাদক একটি দেশকে ধ্বংস করে, জাতিকে ধ্বংস করে, পরিবারকে ধ্বংস করে। একটা সংসারকে ধ্বংস করে। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ আমাদের গড়তেই হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। যে যাই বলুক, কিছু আসে-যায় না। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান অব্যাহত রাখবো। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এগিয়ে নিয়ে যাবো। বুধবার ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বাজেটের প্রশংসা করে সংসদ নেতা বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী চমৎকার বাজেট দিয়েছেন। এটা নিয়ে কেউ কোনও কথা বলতে পারেননি। সব শ্রেণির মানুষের কথা বিবেচনা করে এই বাজেট দিয়েছেন। এই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। সেটাই আমরা আশা করি। তিনি দীর্ঘজীবী হোন। তার সুস্বাস্থ্য কামনা করি। তিনি আরও বাজেট দিন, এটা আমরা চাই।’
কোটা পদ্ধতি বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে
কোটা বাতিলের বিষয়টি প্রসেসের মধ্যে আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছি, কোটা থাকবে না। থাকবে না। এত বছর ধরে যে জিনিসটা চলেছে তাকে তো রাতারাতি। এখন এই থাকবে না, তা কীভাবে কার্যকর করা যায়, তার জন্য আমরা ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। যেন এটা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।’
কোটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাহাত্তর সাল থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটার ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের অনেক অনুন্নত এলাকা রয়েছে। সেই এলাকা, মেয়েদের জন্য প্রতিবন্ধীদের জন্য, এই কোটা ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম শিক্ষার্থীরা সব ঝাঁপিয়ে পড়লো, কোটা পদ্ধতি বাতিল করার জন্য। সেই যাদের জন্য কোটার ব্যবস্থা তারাই যদি না চায়, তাহলে ওটা রাখার আর দরকারটা কী?
বিদেশে পড়াশোনার সঙ্গে বাংলাদেশের পড়শোনার খরচের তুলনা করে সরকার প্রধান বলেন, ‘আমাদের দেশে যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকে, তাদের সিট ভাড়া কত? তাদের খাবার টাকা কত? পড়াশোনার ফিস কত? কয়টাকা খরচ করে? বলতে গেলে একেবারে বিনা পয়সায় আমরা পড়াই। তারপরও তারা যদি রাস্তায় নামে ভিসির বাড়ি ভাঙচুর করে লুঠ, করে এর থেরে লজ্জার কী হতে পারে? সেজন্য কোটা পদ্ধতি বাদ দিয়ে দিয়েছি কমিটি করে দিয়েছি। ওই কমিটি বসবে, করবে। এরপর কোনও মফস্বলের কেউ চাকরি না পায়, তার জন্য কিন্তু আমাদের দায়ী করতে পারবে না।’
কোটা বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের জের ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিরোধী দলীয় নেতা বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা থাকতে হবে। অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই তো আজকে স্বাধীন। তাদের অবদানেই তো আজকে এই দেশ পেয়েছি।’
কোটা নিয়ে বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রী তার ছেলে-মেয়েসহ সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে নিজেদের অসঙ্গতির কথা তলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলে মেয়েরা পৃথিবীর সব থেকে অল্প খরচে লেখাপড়া শেখে। এত অল্প খরচে পৃথিবীতে কেউ লেখাপড়া করতে পারে না। স্পিকার অক্সফোর্ডে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার বাবার ওখানে পড়ার খরচ দেওয়ার সেই সঙ্গতি ছিল না। এজন্য তিনি (স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী) ভর্তি হতে পারেননি।