বৃষ্টি বাধায় ওভার কমা ম্যাচে নির্ধারিত ৪৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেট হারিয়ে ৩২২ রান। তবে ম্যাচ জিততে ডিএল মেথডে ৩৪২ রান করতে হবে জিম্বাবুয়েকে।
আগের ম্যাচেই বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। তার সামনেই এই রেকর্ডটি ভাঙলেন লিটন দাস। শেষ পর্যন্ত ১৪৩ বলে ১৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ধ্বংসাত্মক এ ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও ৮টি ছক্কার মার।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে এরইমধ্যে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে টাইগাররা। আনুষ্ঠানিকতার এই ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের ইনিংস উদ্বোধন করেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাট করতে থাকেন দুজন। তাদের ব্যাটে নবম ওভারেই দলীয় ফিফটি পূরণ করে টাইগাররা।
দুর্দান্ত সব ক্রিকেটীয় শটের ফুলঝুরি ছুটিয়ে অর্ধশতক তুলে নেন দুইজনই। ৫৪ বলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি হাঁকান লিটন। অপরপ্রান্তে ৪৮তম ফিফটি পূরণ করতে তামিম খেলেন ৬০ বল। চারদিকে বাহারি শট খেলে তামিম ইকবাল শতক পূর্ণ করেন ৯৮ বলে। এটি তার ক্যারিয়ারের ত্রয়োদশ শতক।
এর আগে জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে ১১৪ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক তুলে নেন লিটন দাস। এর মধ্য দিয়ে ২২তম টাইগার ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। দেড়শ পূরণ করতে ১৩৫ বল খেলেন এ ওপেনার।
লিটনের বিদায়ে ভাঙে দুজনের ২৯২ রানের জুটি যা টাইগার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে যেকোনো উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ছিল সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পঞ্চম উইকেটে ২২৪ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। প্রতিপক্ষ ছিল নিউজিল্যান্ড।
এছাড়া উদ্বোধনী জুটিতে লিটন-তামিম ভেঙেছেন ২১ বছর আগে গড়া শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ও মেহরাব হোসেন অপির ১৭০ রানের রেকর্ড। সে রেকর্ডটিও ছিলো এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই, ঢাকায়।
লিটনের বিদায়ে নামা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৪ বলে ৩ করে ফেরেন তিনি। এ ম্যাচে অভিষেক হওয়া আফিফ হোসেন ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে করেন ৭ রান। অপরপ্রান্তে তামিম অপরাজিত থাকেন ১২৮ রানে।
লিটন তামিমের জুটি শুধু দেশের রেকর্ডই ভাঙেনি। ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম উইকেট জুটিতে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ। প্রথম স্থানে আছে শচীন টেন্ডুলকার ও রাহুল দ্রাবিড়ের ৩৩১ রান।