মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) সংবাদদাতা:
জমি ও মৎস্য ঘের জোরপূর্বক দখলের অভিযোগে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এফ এম শামীম আহসানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও ঝাড়ু মিছিল করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা। অভিযুক্ত নেতার দলীয় বহিষ্কারসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ গত রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ১১নং বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ১০০নং মৌজার পূর্ব বহরবুনিয়া এলাকার হাওলাদার পাড়ায় এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রায় ৪০ জন জমির মালিক অভিযোগ করেন, হাওলাদার পাড়ার প্রায় ১৪০ থেকে ১৭০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা মৎস্য ঘেরটি দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত প্রভাবশালী মহল পেশীশক্তি ব্যবহার করে দখলে রাখার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে বিএনপি নেতা এফ এম শামীম আহসান জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছেন। রাতের আঁধারে কম দামে ‘হাড়ির টাকা’ দিয়ে জমি নিতে মালিকদের চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জমির মালিক মো. সাইফুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান তালুকদার, রাজিব হাওলাদার, মো. মমিনুল ইসলাম, নাছিমা খাতুন, মরিয়ম বেগম, সাবিনা আক্তার, মর্জিনা বেগম ও মেহেরুন নেছাসহ অনেকে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা জমির চারপাশে লাল নিশান টানিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান এবং পরে ঝাড়ু মিছিল বের করেন।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, দাবি না মানলে মিথ্যা মামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। তারা নিজেদের জমিতে চাষাবাদ ও মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতে চান বলেও জানান।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা এফ এম শামীম আহসান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ২০০৬ সালে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকরা তার নামে প্রায় ১৫০ বিঘা জমি রেজিস্ট্রি করে দেন এবং তিনি বৈধভাবে ঘের পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাবে তা দখল হয়ে যায়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রায় ৬০ বিঘা জমি তিনি বৈধভাবে ‘হাড়ি’ নিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে কোনো বিরোধ না হয়, সে জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
এর আগে, গত ৩ মার্চ ভুক্তভোগীদের পক্ষে মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয় উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন “জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য।”






